Contact us

Vuler Khasarot by Fayz Ahmed, 01813355000
ভুলের খেসারত

চরিত্রায়নঃ-

১। মা (সেলিমের মা) নাজমা
২। বাবা (মনির বাবা) আনোয়ার
৩। মনিরা (সেলিমের স্ত্রী)
৪। সেলিম (মনিরার স্বামী)
৫। মদন (গ্রাম্য ডাক্তার)
৬। রহিমদ্দি ঘটক (গ্রাম্য ঘটক)
৭। ডাক্তার (প্যারামেডিক) ডাঃবশির উদ্দিন
৮। মুন্না (ঘটকের ৭/৮ বছরের নাতি)
৯। পটলা (ডাক্তারের কমপাউন্ডার)
১০। কাজী


১ম দৃশ্যঃ
স্থানঃ- সেলিমের বাড়ী, প্রথমে মা নাজমার প্রবেশ করবে...
নাজমাঃ আজ ১৫ বছর আমার স্বামী মারা গেছে। মৃতুর সময় আমার একমাত্র ছেলে
সেলিমকে আমার হাতে দিয়ে কইছিল... সেলিমের মা আমার সেলিমকে তুমি মানুষের
মতো মানুষ করে গড়ে তুলবে। তাকে মানুষের মতো মানুষ করতে যদি তোমার শরীরের
রক্ত বিক্রি করতে হয় তাতেও তুমি পিছপা হবে না এবং তাকে তুমি একটি শিক্ষিত
মেয়ের সাথে বিয়ে দিবে কথা দেও! তুমি কথা দাও...!
স্বামীর সেই কথা রক্ষা করতে গিয়ে শত কষ্টের মাঝেও সেলিমকে লেখা-পড়া করাতে
চাইছিলাম কিন্তু টাকার অভাবে তা আর সম্ভব হয় নাই।
তবে এবার আর আমি সেই ভুল করবনা। ছেলেকে বিয়ে দিব। নাতি হবে (হাসতে..
হাসতে) নাতিকে আমি ডাক্তারী পড়াব। (প্রস্থানে উদ্যাত মা.. মা... ডাকতে
ডাকতে সেলিমের প্রবেশ।)
সেলিমঃ মা... মা.... অ..মা তুমি এখানে? সেই কখন থেকে তোমাকে ডাকাডাকি
করছি। মা তোমাকে আজ বেশ খুশি খুশি দেখাচ্ছে যে?
মা.. বাবাকে আমি দেখিনাই! তবে তোমাকে এর আগে এত হাসি-খুশি দেখিনি।
কি ব্যপার মা লক্ষ্মীমা আমার, আমাকে বলবে না?
নাজমাঃ তোকে বলার জন্যইতো আমি এখানে আইছিলাম।
সেলিমঃ তাবে আর দেরি করছ কেন মা?
নাজমাঃ হ্যাঁ কথাটাতো তোকেই বলতে হবে। তুই ছাড়া আর আমার কে আছে বল?
সেলিমঃ তা হলে বলে ফেলনা মা? আমাকে একটু বাজারে যাইতে হবে। বলছিলামকি
সেলিম, আমি তোর বাবাকে কথা দিয়ছিলাম ,তোকে লেখা পড়া করাইয়া অনেক বড় করবো,
কিন্তু অভাবের তারনায় তা হয়ে ওঠে নাই । তবে এবার ঠিক করেছি তোকে ভাল দেখে
বিয়ে দেব। (অন্য দিকে তাকিয়ে)তোর ঘরে আমার নাতি আসবে ,আমার আশা সেই
নাতিকে আমি অনেক বড় করে গড়ে তুলবো।আমার বড় ইচ্ছা আমার যে নাতি ই হোকনা
কেন তাকে আমি ডাক্তারী পড়াবো। ডাক্তার হয়ে সে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবে

সেলিমঃ মা ডাক্তার হতে অনেক টাকা লাগে। আমরা তা পাব কই? আর এই মূহুর্তে
আমি বিয়ে করতে চাইনা মা। তুমি আর একটু ভেবে দেখ মা। আমি একটু বাজার থেকে
আসি। তোমার সাথে পরে কথা বলবো। লক্ষ্মীমা আমার (বলে মায়ের কপালে একটি
চুমু দিয়ে প্রস্থান।)
নাজমাঃ ছেলে আমার লজ্জা পেয়েছে। তবে আমি কালই ঘটককে ডেকে পাঠাব।
(প্রস্থান)
২য় দৃশ্যঃ
স্থানঃ (মানিরাদের বাড়ি। বাবা আনোয়ার একটি বিড়ি টানতে টানতে মঞ্চে আসবে
এবং মনিরাকে ডাকতে থাকবে।)
আনোয়ারঃ মনিরা... মা মনিরা... কই গেলিরে মা...? আমারে এক গ্লাস পানি দেতো
মা...? (হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে যাবে। চোখে মুখে বিষন্নতা থাকবে।)
আনোয়ারঃ মরিয়ম, তোমায় হাড়ানোর স্মৃতি আজও কোন মতে ভুলতে পারিনি। যেখানেই
যাই প্রতিটি মূহুর্তে যেন তুমি আমরই চোখের সামনে। মনে হয় কি অদ্ভুদ সাধনা
জানা তুমি। তা নাহলে নিজেকে আড়াল করে স্বামীকে ভুলে থাকতে পারতে? সেই
এতটুকু যখন তোমাকে ঘরে এনেছিলাম, বাসর ঘরে আমাকে দেখে সেকি হাসি তোমার?
ইচ্ছে করলেই কি সে হাসি এ দু'চোখের পাতা থেকে তা মুছে ফেলা যায়। কিন্তু
কি করব বলো নিয়তির নির্মম পরিহাস আমাতে মেনে নিতে হলো।
মা মনিরা... মা মনিরা... (ডাকতে থাকবে, কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে।) এবার
মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে নিজে একটু স্বচ্ছন্দে ঘুড়ে বেড়াতে চাই।
তা হলেতো ঘটককে বিষয়টা আজই জানাতে হয়। (প্রস্থানে উদ্যাত এমন সময় বাজান
বাজান ডাকতে ডাকতে মনিরার প্রবেশ।)
মনিরাঃ বাজান... বাজান... আমাকে ডেকেছ?
আনোয়ারঃ হ্যারে মা! তোকেইতো সেই কখন থেকে ডাকতেছি।
তা কোায় গেছিলিরে মা...?
মনিরাঃ এইতো বাজান ঐ দিকটাতে একটু গিয়েছিলাম।
আনোয়ারঃ মারে যা দিন কাল পরছে তাতে বড় ভয় হয়। তাই বলছিলাম যখন তখন এদিক
সেদিক যাসনে মা!
মনিরাঃ বাজান তুমি আমারে নিয়া বেশী ভেবোনাতো।
আনোয়ারঃ সাধে কি আর ভাবছিরে মা... (অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে) ও হ্যা তুইনা
একটা ছেলের কথা বলছিলি? তা ছেলেটি কে?
মনিরাঃ এক সময় দু'জনে একই ক্লাশে পড়তাম। ওর নাম সেলিম। ওর বাবা নাই। জানো
বাজান সেলিমের বাবা খুব ভাল মুনুষ ছিল। ওর মাও খুব ভাল।
আনোয়ারঃ তুই চিনিস নাকি?
মনিরাঃ হ্যা বাজান। ওদের বাড়িতে আমি একদিন গিয়েছিলাম।
আনোয়ারঃ তা সম্ভব হলে ওকে আমার সাথে একবার দেখা করতে বলিস আমি ওর সাথে
কথা বলবো ,ঠিক আছে ? (প্রস্থান)
মনিরাঃ বাজান সেলিমকে মনে হয় চেনে, তা না হলে ওকে আসতে বলবে কেন ?আ ওকে
দেখলে অবশ্যই পছন্দ হবে। আমি আজই ওকে খবরটা দিয়ে আসি। (হাসতে... হাসতে...
প্রস্থান)
৩য় দৃশ্যঃ
স্থানঃ (ঘটকের বাড়ী, ঘটকের প্রবেশ।)
ঘটকঃ কি যে দিন কাল পড়ছে বাপু ,আইজ কয়ডা মাস চইল্যা গ্যাল একটা
বিয়ে-সাধিও পাইলাম না। আমি রহিমদ্দি ঘটক, এহন দেহি না খাইয়া মরার জোগাড়
হইছে। কিন্তুক.... কেন বিয়া সাধী হয়না... (একটু ইতস্ত করে) আমানেরা
কিকইতে পারেন? (মঞ্চে তিন দিকে দর্শকদের কাছে প্রশ্ন করবে।)
পারেন না! কিন্তু আমি জানি (হাসতে থাকবে আবার জিজ্ঞাসা করবে) কি কন
পারিনা? কমু না কমু না ? এইবার কমু ,তয় আমনেরা রাখ করতে পারবেনা ।আর
আমনেরা রাখ করলেও আমার কোন ভয় নাই।কারন আমার প্যাডে খিদা লইয়া ডরাইয়া কোন
লাভ নাই।এহন আসল কথাডা হইল পোলারা ভ্যবাক হইল আলিশ্যা, আর মাইয়ারা খালি
পেম করে ।বোজেন নাই, পোলারা বিয়াকরলে কাম করন লাগবে । হেইডার লইগ্যা খালি
ওফা খায় । আর মাইয়ারা খালি পেম করে। আর নাম্বারে বুক।(হাসতে থাকবে এমন
সময় রহিমদ্দি ঘটক বাড়ীতে আছোনি বলে ডাকতে ডাকতে আনোয়ারের প্রবেশ)দর্শকদের
দিকে তাকিয়ে এইযে কপাল মনে হয় খুলল।
আনোয়ারঃ এই যে রহিমদ্দি ভাই! তোমারে খুজতে খুজতে একেবারে
বাড়ীত চলে এলাম।
ঘটকঃ আছছালামাøাইকম! তা আপনে?
আনোয়ারঃ আহারে রহিমদ্দি ভাই কও কি? তুমি আমারে চিনলানা? আমি ঐ উত্তর
পাড়ার আনোয়ার মৃধা।
ঘটকঃ ওহো হু (বলে হাত বারিয়ে হ্যান্ডসেক করবে।) তাই বলেন! তাই বলেন! একটু
বয়স হইছে তো তাই চিনতে পারি নাই। বেয়াদবী নিয়েন না। মুন্না... মুন্না...
দাদু ভাই... একটা চেয়ার দেতো। (এরই মধ্যে মুন্না একটা চেয়ার নিয়ে দৌরে
আসবে।)
মুন্নাঃ দাদু এই যে চেয়ার! (বলেই দৌড়ে প্রস্থান।)
আনোয়ারঃ থাক থাক আর বসতে হবে না। দাড়াইয়াই কইয়া ফালাই। এইড কে রহিমদ্দি ভাই?
ঘটকঃ আরে বসেননা। আর কইয়েননা ভাই ও আমার মাতরো মাইয়ার পোলা।
অর মা নাই।
আনোয়ারঃ ক্যান অর মায় কই?
ঘটকঃ (কান্না জড়িত কন্ঠে) অর মায় অরে থুইয়া মইরা গ্যাছে।
আনোয়ারঃ তোমার মাইডারে আমি ছোড বেলায় এক-দুইবার দেখছিলাম।
কি সুন্দর ফুটফুইটাইনা ছিল।
ঘটকঃ হেই কথা আর মনে করবার পারিনা ভাই। আর মোনেও করতে চাইনা।
আনোয়ারঃ আচ্ছা কি হয়েছিল তোমার মাইয়ার?
ঘটকঃ হুনবা হেই কতা? একদিন মাইয়াডারে হঠাৎ কইরা বিয়া দিয়া দিলাম। পোলাডও
দেখতে হুনতে ভালাই আছিল। ছয় কড়া জমি বেইচ্চা হগল কিছু দিয়া মাইডারে বিয়া
দিছিলাম। কয়েক মাস না যাইতেই মাইয়াডা পোয়াতি হইল। বড় আশায় বুক বাঁধলাম
নাতির মুখ দেখমু। হ্যারপর হাঠাৎ মাইডা অসুখে পরল। জামাই তারে কোন ডাক্তার
দেখায় নাই। খালি কবিরাজের কাছে নিত। কবিরাজ কইছে পোয়াতিরা কোন ডাক্তারী
ওসুদ খাইতে পারে না। তাইলে নাকি বাচ্চা পর্ইরা যায় হেই ডরে আমার মাইয়ারে
কোন ডাক্তার দেহায়নাই। ডেলিবারির সময় ঘনাইয়া আইলে রক্ত পরতে পরতে নাতি
হওয়াইল কিন্তু মাইয়াডা আর দুইনাইতে থাকল না। আর মাইয়া শোগে তোমার ভাবিও
কানতে কানতে দুইনাই ছাড়ল। (চাখে পানি জড়িত ভারাক্রান্ত হয়ে) হেই থেক্কাই
মুন্নারে আমার ধারে লইয়া আইছি। চোখ মুছতে মুছতে) তায় তোমার কথাতো জানা
হইল না।
আনোয়ারঃ (আনোয়ার ভীতভাবে) আইছিলাম যেই জন্যে কেমন জানি সাহসটা একটু
দইম্মা গ্যাছে। কথাটা কমু কিনা...?
ঘটকঃ আরে ও কিছু না বিয়ার পরে সবমানুষ মরবে এমন কোন কতা নাই। আমনের
বিষয়ডা কইয়া ফালান।
আনোয়ারঃ না তানা! কইছিলাম... আমার একটাইতো মাইয়া... মনিরার...
ঘটকঃ (হাসির ঢঙ্গে) ও হো মনি মায়ের বিয়া দিবেন এই তো...? আমি রহিমদ্দি
ঘটক থাকতে এই নিয়া আমনের ভাবদে হইবেনা। মনি মার জন্য এ্যামোন পোলা আনমু
স্বাক্ষাত রাজপুত্তুর।
আনোয়ারঃ তাইলে আজ আমি যাই। (প্রস্থান)
ঘটকঃ কতাতো ফেরেস্তার মতন কইলাম। কিন্তুক এমন পোলা পামু কই...? রহিমদ্দি
ঘটক যেখানে একবার হাত দেলে দেয় সে হাত কখনও ফেল করে না । (হাসতে হাসতে
প্রস্থান)
৪র্থ দৃশ্যঃ
স্থান ঃ ডাঃ বশির উদ্দিরেন বৈঠকখানা
গ্রামের লোকদের নিয়ে বৈঠক করবেন ডাঃ বশির।
ডাক্তার ঃ আপনাদের কেন এখানে ডাকা হইয়াছে। তাকি আপনারা বলতে পারেন।
আনোয়ার ঃ না ডাক্তার ভাই আমরা গ্রামের মানুষ বেভাক কথা সহজে বুঝতে পারি
না। তয় এখন কন দেখি কিছু বুঝবার পারি কিনা।
ডাক্তার ঃ (শারিমন কে লক্ষ করে) আপনি কি কিছু বুঝতে পারছেন।
শারমিন ঃ আমি তো আপনার কথা শুনে আইলাম।
ডাক্তার ঃ বেশ তো। আপনারা যে বুঝতে পারেন নাই তাই আমি জানি। তবে কথা গুলো
মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে। (সকলে একসাথে জি ডাক্তার ভাই আপনি বলেন)
তবে শুনেন আমাদের এলাকার চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয় নাই। এটা
মোটেও ঠিক না। কারন চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। দেখছেন না এখন
সরকারের পাশা পাশি অনেক এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামের বাড়ী বাড়ী উঠান
বৈঠকের মাধ্যমে আপনাদের কে সচেতন করার জন্য দিন রাত্র কাজ করছে। সেখানে
মাও শিশু স্বাস্থ্য গর্ভবর্তী ও প্রসুতি এবং নবজাতকের বিভিন্ন সমস্যা
নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরামর্শ দিয়া থাকেন। (কয়েক জনকে প্রশ্ন করবে) এসব
কি আপনারা শুনেছেন। (দুই একজন বলবে) (যে শুনেছি কিন্তু যাইতে সময় পাই
নাই)। সময় আপনাদের কে করে নিতে হবে।
কারন আপনার সামন্য ভুলে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এবারে আপনাদের জন্য
ভাল সুসংবাদ আছে (সবাই একসাথে ) কি সুসংবাদ ডাক্তার ভাই হ্যাঁ এই সংবাদটি
দিব বলে আপনাদের কে নিয় আসলাম। তবে শুনেন আপনাদের আই এ পাস অথবা সমানের
পাস ছেলে অথবা মেয়ে সকলে এখন ডাক্তারি পড়তে পারবেন।
আনোয়ার ঃ মেয়ে আমার ডাক্তারের হইবে ?
ডাক্তার ঃ হ্যাঁ সে ছেলে হোক আর মেয়ে হোক । তবে মেয়েদের অগ্রাধিকার বেশী থাকবে।
আনোয়ার ঃ শুনছি ডাক্তারি পরাইতে অনেক টাকা লাগে এত টাকা আমরা পাব কই।
ডাক্তার ঃ না বেশী টাকা লাগে না। এজন্য স্পিড ট্রাস্ট আপনাদের সুচিকিৎসা
ও মান সম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাল লক্ষ্যে দু বছর মেয়াদী
প্যারামেডিক কোর্সে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করছেন।
আনোয়ার ঃ সেখানে কি কোন টাকা পয়সা লাগে না ।
ডাক্তার ঃ হ্যাঁ টাকা লাগে তবে খুবই সামন্য থাকা খাওয়া বাদে দু বছরে
মাত্র ২০,০০০/- (বিশ হাজার টাকা)
আনোয়ার ঃ কন কি ডাক্তার ভাই মাত্র ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকায় আমাগো ছেলে
মেয়ে ডাক্তার হইবে।
ডাক্তার ঃ হ্যাঁ মাত্র ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা। কি খুব বেশী মনে হয়।
আনোয়ার ঃ তবে যে শুনছি অনেক টাকা লাগে
ডাক্তার ঃ জি আপনারা ঠিকই শুনেছেন। একজন প্যারামেডিক ডাঃ হতে অনেক টাকা
লাগে। তবে আপনারা দুই বছরে মাত্র বিশ হাজার টাকা দিবেন। বাকি সব টাকা
স্পীড ট্রাস্ট আপনার সন্তান কে বৃত্তি হিসাবে প্রদান করিবেন। কি এবার
সবাই বুজতে পেরেছেন তো (সবাই একসাথে) জি ডাক্তার ভাই এই বার আমরা সব
বুঝতে পারছি। ডাক্তার তাহলে এবার আপনারা সাবাই আসতে পারবেন। আমার একটু
জরুরী কাজ আছে। জি ডাক্তার ভাই আমরা খবরটা এখনই গ্রামের সবাই কে জানাব। ।
আস্সালামু আলাইকুম !
৫ম দৃশ্যঃ
স্থানঃ ( বাগান বাড়িতে গান গাইতে গাইতে মনিরার প্রবেশ।)

মনিরাঃ (গান) মনে আগুন জ্বলে... (সেলিমে প্রবেশঃ দৃষ্টি পরবে
অন্যপ্রান্তে সেলিম কোথায় যেন যাচ্ছে) সেলিম ভাই... সেলিম ভাই.... (এক
পলক চেয়ে থাকবে) আরে সেলিম ভাই তুমি আমারে চিনতে পারছ না? আমি দক্ষিণ
পাড়ার মনিরাগো... মনিরা...।
সেলিমঃ তুমি... তুমি আনোয়ার চাচার মেয়ে না...?
মনিরাঃ হ্যাগো... হ্যা... আমিই সেই মনিরা।
সেলিমঃ বেশ বড় হয়েছো তুমি। তা চাচা-চাচি কেমন আছে? চাচির শরীরটা ভাল
আছেতো...? (অনেক দিন মা হাড়ানোর ব্যাথাটা মনিরার মনে)
মনিরাঃ বাজান ভালই আছে? (হঠাৎ কেদে উঠে) মায়তো কিছু দিন হয় মারা গেছে।
(কান্নায় ভেঙ্গে পড়বে।) মায় আর কোন দিন ফিইরা আইবে না। (সেলিম মনিরার
বাহুতে হাত দিয়ে সান্তনা দিবে)
সেলিমঃ তুমি শান্ত হও মনি মা-বাবা কারোই পৃথিবীতে চিরদিন বেচে থাকবে না।
মনটাকে শক্তকর আস্তে আস্তে সব ঠিক হইয়া যাবে। (মনিরা বার বার আচলে চোখ
মুছে কিছুটা স্থীর হয়)
মনিরাঃ মনডারেতো অনেক বুঝাই কিন্তু.... (আবার কান্না)
সেলিমঃ বেশতো এখন থেকে না হয় প্রতিদিন আমি তোমাকে কিছুটা সময় দেব। তোমার
কোন আপত্তি নাইতো?
মনিরাঃ (কিছুটা শান্ত হয়ে) না আপত্তি থাকবে কেন? বাজান তোমার কথা শুনলে
খুশি হবে। আচ্ছা সেলিম ভাই তুমি কাল আমাগো বাড়ীতে আইসো বাজান তোমার সাথে
কথা কইবে।
সেলিমঃ ঠিক আছে। আমি চেষ্টা করব। আর হ্যা তুমি কিন্তু একদম মন খারপ করবে
না। ঠিক আছে ?
মনিরাঃ ঠিক আছে আর মন খারাপ করবো না। তবে তুমিকিন্তু কাল আসবেই ? তুমিতো
জাননা সেলিম ভাই বাজান আমার বিয়া দেয়ার জন্য ঘটকের সাথে কথা কইছে। হের
লাইগা আমার মনডা খুব খারাপ ধরছে। তয় তুমি কিন্তু কাল আসবাই। (প্রস্থান)
সেলিমঃ চাচায় মনিরার বিয়া দিতে চাইতেছে তা হলে তো কাল আমাকে যাইতেই হইবে।
(প্রস্থান)
৬ষ্ঠ দৃশ্যঃ
স্থানঃ (গ্রাম ডাক্তার মদনের বাড়ী, মদনের প্রবেশ)
মদনঃ হালায় এত বছর ধইরা গেরামে গেরামে ডাক্তারী করি কোন সময় এই রহম
দুরদিন দেহিনাই। রোগি না পাইলে চলমু কেমনে? সকালেই বৌ কইছে আইজ অনেক
টাকার বাজার লাগবে। রোগি না পাইলে টাহা পামু কই? পটলারে কোন সময় পাডাইলাম
এহনো একটা রোগিও পায়নাই। পটলারে... ও পটলা (ডাকতে ডাকতে)।
পটলাঃ আমি এইহানেইতো স্যার।

মদনঃ আরে হালায় রোগি কি পাইলি?
পটলাঃ না স্যার সকাল তোনেই বইয়া আছি কই কোন রোগী টুগি যায় নাই। কারে ধরমু কন?
মদনঃ আরে হালায় কয় কি? রোগি না পাইলে চলমু ক্যামনে? তাইলে তুই হালায়
হুইয়া পর আইজ তোরে দিয়া সাইট করমু। তুই রেডি হ আমি আইতাছি। (প্রস্থান)
পটলাঃ (দর্শকের দিকে তাকাইয়া) মদনা হালায় পাগল অইছে আমাড্ডেতো কোন টাহাই
নাই। তায় আমারে দিয়া সাইট করবে। আমনেগো কেওর অসুখ থাকলে শিকার কইর্রেন না
। ওই হালায় কইলাম ভুয়া ডাক্তার। জানেন হালায় রোগী পাইলে আটকাইয়া মফেল
দেয়। জানেন না আমি এহন খালি হ্যার মতোন কতা কই। হারে দিয়া আমার চিকিৎসা
করাইলে এত দিনে আমার কবরের উপরে একটা (হাত দিয়া দেখাবে) ইয়া বড় রেন্ডি
গাছ হইতো। আমি আর এই হালার চাকরি করুম না। ছালামালাইকোম। (প্রস্থান)
মদনঃ (দৌড়ে প্রবেশ) পটলা কই গেলিরে পটলা.... হালায় এতক্ষন আমনেগোরে ভাল
কইরা কইছে না? হালায় নতুন তো বেবাক কইতে পারে নাই। তয় আমি কই হোনেন...
আমি হইলাম ডাক্তার মদন আলী বাবার নাম চেরাগ আলী মার নাম জানে বাবায় খালি
গ্রাম আমার হুটকিখালী পোস্ট অফিস কাডাখালী উপজেলা সদরগুলি জেলা হইছে
টিয়াখালী এই ঠিকানায় আইবেন হগোল রোগের চিকিৎসা পাইবেন। (প্রস্থান)
৭ম দৃশ্যঃ
স্থানঃ (মনিরাদের বাড়ি। উঠানে ঝাড়– দিতে থাকবে মনিরা। সেলিমের প্রবেশ।)
সেলিমঃ এটা কি মনিরাদের বাড়ি? (মনিারা মাথা তুলে তাকাতেই সেলিমকে দেখে
হাত থেকে ঝাড়– ছেড়ে দেবে)
মনিরাঃ আরে সেলিম ভাই তুমি আইয়া পরছ? বাজান বাজান দেহ কেডা আইছে! সেলিম
ভাই তুমি আইছো আমার যে কি আনন্দ লাগতাছে! আইজ আমি রান্না করমু তুমি
কিন্তু খাইয়া যাইবা। (মা মনিরা... মনিরা... ডাকতে ডাকতে আনোয়ারের প্রবেশ)
সেলিমঃ আসসালামুআলাইকুম!
আনোয়ারঃ অলাউকুমআছছালাম! হ্যা রে মা তুই কি আমারে ডাকছিলি? ( সেলিমকে
দেখে সেলিমের দিকে চেয়ে থাকবে) ও কে মনিরা?
মনিরাঃ ও বাজান তোমারে কইছিলাম না এইতো সেই সেলিম ভাই।
আনোয়ারঃ ও... তুমি তাহলে সেলিম? তা তোমার বাবার নাম কি?
সেলিমঃ দক্ষিণ পাড়ার নাজিমুদ্দিন ছিলেন আমার বাবা।
আনোয়ারঃ ওহ্যা দক্ষিণ পাড়ার নাজিম ভাইর ছেলে তুমি?
সেলিমঃ জি হ্যা।
আনোয়ারঃ তা নাজিম ভাই ভাল আছেতো বাবা? ছোট বেলায় তোমার বাবা আর আমি এক
সাথে মক্তবে পরতাম ।তার পর অভাবের সংসারে আমার আর লেখা পড়া হয় নাই। তা
নাজিম ভাইর শরীরটা ভালতো বাবা ? (কিছুটা বিষন্ন মনে )
সেলিমঃ বাবাতো অনেক আগেই মারা গেছে চাচা ।
আনোয়ার ঃ কই ? আমিতো আর হুনি নাই ,আমি না বুইজাই তোমাকে কষ্ট দিলাম ,
কিছু মনে করনা বাবা। মন খারাপ করনা ,(শান্তনা দিতে থাকবে )এই দেহ কথায়
কথায় কত সময় হয়ে গেলো ,মনিরা তোর সেলিম ভাইকে একটু বসতেদে মা।(মনিরা ভিতর
থেকে ২টি চেয়ার নিয়া আসবে )
মনিরা ঃ বও বাজান ,বহেন সেলিম ভাই । তোমরা বসে গল্প কর আমি পাক বহাইয়া
দেই । (প্রস্থান)
আনোয়ার ঃ তা তোমরা কয় ভাই বোন বাবা
সেলিম ঃ আমার আর কোন ভাই-বোন নাই চাচা।চাচা, আপনে একবার আমাদের বাড়ীতে
আসেন না? মার সাথে কথা বলে আসবেন । মা আপনাকে পেলে বেশ খুশি হবেন ।
আনোয়ার ঃ বেশতো কালই তুমি তোমার মাকে নিয়ে আমার বাড়ী আসো। আমি যাওয়ার মতো
তেমন সময় পাইনা তাই বলছিলাম তুমি কালই তোমার মাকে নিয়া আসো।
সেলিমঃ ঠিক আছে চাচা আমি মাকে বলবো। তাহলে আজ আসি চাচা। কাল মা আসলে নিয়া
আসবো। (প্রস্থান)
আনোয়ারঃ এ রকম ছেলে হাজারে কয়ডা পাওয়া যায়! তার চেয়ে আমি বরং ঘটককে আজই
পাডাইয়া দেই। (প্রস্থান)
(আনোয়ার হাটতে হাটতে পথে ঘটক রহিমদ্দির সাথে দেখা হয়ে যায়। ঘটক ও আনোয়ারের প্রবেশ)
ঘটকঃ আমি আনোয়ার ভাই আমনের ধারেই যাইতে ছিলাম। পোলার একখান খোজ পাইছি
আল্লায় দিলে স্বাক্ষাত একখান রাজপুত্তুর আমনেও পাগল হইয়া যাইবেন।
(দর্শকদের দিকে তাকাইয়া)
আনোয়ারঃ পাগলতো আমি হইয়াই গেছি। (স্বাভাবিক হয়ে) তা ছেলেটা কারগো ঘটক?
ঘটকঃ আরে আমনে তা চিনবেন না। আমি একেবারে পাক্কা কাতা দিয়াইছি। কালই
পোলার মায়রে মাইয়া দেখাইতে লইয়া যামু। তহন কিন্তুক আর না কইতে পারবেন না।
আনোয়ারঃ বেশতো তা ছেলের পরিচয়ডা তো জানতে হবে।
ঘটকঃ তাহলে হুনেন। দক্ষিণ পাড়ার নাজিমউদ্দিনের এক মাত্র ছেলে সেলিমগো
সেলিম। কি পছন্দ হইল তো?
আনোয়ারঃ বেশতো ! ঠিক আছে তুমি ছেলের মাকে নিয়া আস তারপর দেখা যাবে।
প্রস্থান
৮ম দৃশ্যঃ

স্থানঃ (আনোয়ারের বাড়ী, মা নাজমা, ঘটক রহিমদ্দি পরে সেলিমের প্রবেশ)
ঘটকঃ কইগো আনোয়ার ভাই....? দেহ কাগোরে লইয়াছি। আমার মা লক্ষ্মী কই...?
(আনোয়ারের প্রবেশ)
আনোয়ারঃ আরে রহিমদ্দি ভাই যে, বস বস মা মনিরা কয়ডা চেয়ার দে তো মা....
ঘটকঃ তয় কইছিলাম কি এই হইল সেলিমের মা (হাত দিয়া দেখাইয়া দিবে) আর এই
হইলো মা লক্ষ্মী মনিরার বাবা।
(এতক্ষণে দুই হাতে দুই খানা চেয়ার নিয়া মনিরার প্রবেশ)
মনিরাঃ বাজান এই তো চেয়ার....
(নাজমা মনিরার দিকে চেয়ে থাকবে। মনিরাও নাজমার দিকে চেয়ে থাকবে।)
আনোয়ারঃ এই তো মা তোর সেলিম ভাইর মায়ে (মনিরা পায়ে হাত দিয়া ছালাম দিবে)
নাজমাঃ থাক মা বেচে থাকো! বেচে থাকো! (নাজমা আনোয়ার চেয়ারে বসবে মনিরা
ধ্র"ত আরএকটি চেয়ার ্এনে দিবে) তা কেমন আছেন ভাই সাহেব?
আনোয়ারঃ আলহামদুল্লিাহ! ভালই আছি আপনে ভাল আছেনতো ভাবী?
নাজমাঃ বেশ ভাল। তা আপনে সেলিমের বাবার বেশ ঘনিষ্ট বন্ধু আমি আগে
জানতামনা রহিমদ্দি ভাইর কাছে সব হুনছি। (মনিরাকে কাছে ডেকে) তুমিই তাহলে
মনিরা?
মনিরাঃ জি চাচি।
ঘটকঃ (অন্য দিকে তাকাইয়া) আর বেশীক্ষণ চাচী কইতে হইবেনা আম্মা কন আম্মা।
নাজমাঃ ভাই সাহেব আমার একমাত্র ছেলে সেলিমকে বিয়ে দিব বলে ভাবছি। আপনার
মেয়ে মনিরাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আমি মা মনিরাকে আমার ছেলের বউ করে
ঘরে নিতে চাই যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে।
আনোয়ারঃ আপত্তি বলছেন কেন? আপনার ছেলে সেলিম বাবাজিকে আমার বেশ পছন্দ। এ
রকম ছেলের মা হতে পেরে আপনিও বেশ গর্বিত।
ঘটকঃ তইলে আর দেরি কেন আইজই দিন তারিখ ঠিক কইরা ফালান।
নাজমাঃ হ্যা তাই করা হবে। জানইতো কথায় বলে শুভকাজে ৭১ডা শয়তান পরে। আমি
আর দেরী করতে চাইনা। আগামী কাল শুভ শুক্রবারই বিয়ের দিন ধার্য করা হইল
(সবাই এক সাথে আমীন আমীন বলবে)
৯ম দৃশ্যঃ
স্থানঃ (আনোয়ারের বাড়ি বিয়ের আসরে বিয়ের আনন্দে গান গাইবে কয়েকজন মেয়ে।)
মেয়েরাঃ (গান) বিয়ের সাজনি সাজ কন্যালো...
মেয়েরাঃ (গান) আজ বুঝি তোরে যাবে লইয়া... ইত্যাদি।
(মঞ্চে আসবে আনোয়ার সেলিম নাজমা ও বধু বেশে মনিরা, ঘটক ও কাজী)
ঘটকঃ আল্লার নামে এইবার বিয়ার কাম শুরু কইরা দেন কাজীসাব।
কাজীঃ আমনেরা সবাই বইয়া পরেন।(সবাই মেঝেতে বসে পরবেন। কন্যা দানের
উদ্দেশ্যে বাবা আনোয়ার সেলিমকে নিয়ে মুখোমুখি বসবে।) (আনোয়াকে উদ্দেশ্য
করে) আমনে বলেন আমার একমাত্র কইন্ন্যা (আনোয়ার সাথে সাথে বলবেন।) মোসাঃ
মনিরা বেগম মনিকে দক্ষিণপাড়া নিবাসী মরহুম নজিমুদ্দিনের পুত্র মোঃ সেলিম
মিয়াকে ৫০০১ টাহা দেন মোহর ধার্য করিয়া এই হগোতেরে স্বাক্ষী রাখিয়া নিকাহ
দিলাম। (মিষ্টি বিতরণ। ঘটক ও কাজী বর কনেকে আর্শীবাদ দিয়ে বিদায় নিবেন। এ
সময় মনিরাকে বাবা আনোয়ার নাজমা ও সেলিমের হাতে তুলে দিয়ে কন্যায় ভেঙ্গে
পরবেন। মনিরা বাবাকে সালাম করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরবেন।)
নাজমাঃ বেয়াই সাহেব আপনি এ্যাত ভেঙ্গে পরবেন না। মনিরাকে আমার মেয়ের মতো
রাখব। আর আপনের যখন মন চাইবে তখনই আমার বাড়ী চলে আসবেন। (মনিরা ও সেলিম
বাবাকে পা ছুয়ে ছালাম করবে এবং কাদতে কাদতে প্রস্থান)
নাজমাঃ তাহলে আমি এখন আসি বেয়াই সাহেব। আপনি বরং কালই একবার গিয়ে মনিরাকে
দেখে আসবেন। (এই বলে ছালাম দিয়ে প্রস্থান)
আনোয়ারঃ (দেয়ালে ছবি দেখে) মরিয়ম! এ কি হলো মরিয়ম! (কাদতে থাকবে) তোমায়
হাড়ানোর ব্যাথা মা মনিরাকে দেখে ভুলে ছিলাম। কিন্তু মা মনিরাও আমাকে ছেড়ে
চলে গেল। আমি এখন কি নিয়ে বাচব।

১০ম দৃশ্যঃ
স্থানঃ (সেলিমদের বাড়ি, বিয়ের তিন মাস পর।)
(মা হতে চলছে মনিরা, প্রাথমিক উপসর্গ হিসাবে বমি বমি ভাব মাথা ব্যাথা,
মাথা ঘোরা, খাবারে অরুচি ইত্যাদি। নাজমার প্রবেশ)
নাজমাঃ বউ মা! বউ মা!
মনিরাঃ আম্মা আমায় ডেকেছেন।
নাজমাঃ হ্যা বউ মা। তুমি না কইলেও আমি বুঝে গেছি। তুমি মা হতে চলেছ।
(হাসতে থাকবে) আমি জানি আমার দাদুভাই আসতেছে। আমার বংশেে প্রদীপ আসতেছে।
(উপরে হাত তুলে) হে আল্লাহ তুমি আমার সেলিমরে একটা ছেলে দিও।
(মনিরা কিছুটা লাজুকভাবে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকবে, হাসতে হাসতে সেলিমের প্রবেশ)
সেলিমঃ মা তুমি এখানে আমিতো তোমাকেই খুজছিলাম।
নাজমাঃ কি জন্যে খুজছিলে আমি তা জানি। আমার দাদু ভাই আসতেছে। আমার বংশের
প্রদীপ আতেছে। (প্রস্থান)
মনিরাঃ তুমি কি লজ্জা সরমের মাথা খাইছো? এখনই কথাটা মাকে বলে দিলে? জান
আম্মা আমাকে জিজ্ঞাস করছিল। তখন আমি খুব লজ্জা পেয়েছি। আমারে কি একটু
ডাক্তারের কাছে লইয়া যাইবা। আমার খুব ভয় করতাছে। আর শরীরটাও খুব একটা ভাল
লাগেনা।
সেলিমঃ তাইলে মায়েরে কও সেই ব্যবস্থা নিবেন। আমি এখন কাজে যাই। দেখছোনা
খরচ বাড়তেছে। (দুজনেই হাসতে হাসতে প্রস্থান)
(নাজমার প্রবেশ)
নাজমা ঃ বউ মা! বউ মা!
মনিরাঃ আম্মা এইতো আমি। আম্মা আমার শরীরডা খুব একটা ভালনা। আমি একটু
ডাক্তারের কাছে যাব।
নাজমাঃ কেন এরই মধ্যে আবার তোমর কি হলো?
মনিরাঃ আম্মা আমার খুব ভয় করতাছে। তাই বলছিলাম আমি একটু ডাক্তারের কাছে
যাইতে চাই। আপনি কটু অনুমতি দেন।
নাজমাঃ বউমা তুমিতো নতুন মা হতে যাইতাছো তাই একটু ভয় ডর থকতেই পারে।
এগুলা ডাক্তারে দেইখা কি করবে। আমি কালই কবিরাজের থিক্কা তাবিজ আইন্না
দিমু। আর এ সময় ঝি বউয়েরা বাড়ীর বাইরে যাইতে নাই। এতে ভুত পেতিœ লগ লয়।
অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয় এগুলা তুমি বুঝবা না । কি অলক্ষুনে যে তোমারে
ঘরে আনছিলাম তা আল্লাই জানে। কবিরাজকে বলা আছে তোমার যে কোন সমস্যা সে
দেখবে এ নিয়া তোমাকে ভাবতে হবে না । এর পর আর কোন কতা কইবা না।
(প্রস্থান)
স্থানঃ নাজমাদের বাড়ী মা মনিরা ডাতে ডাতে বাবা আনোয়ারের প্রবেশ
আনোয়ার ঃ মা মনিরা ......মনিরা কই আমার মা মনি কই ?
ভেতর থেকে নাজমা বউ মা .....বউ মা , দেখতো কে ডাকা ডাকি করছে ?
কে.......কে .......ওখানে ?বলতে বলতে মনিরার প্রবেশ
মনিরা ঃ আরে বাজান , বাজান তুমি আইয়া পরছ ? বাজান আজ কত দিন তোমারে
দেখি নাই, (মনিরা বাবাকে জড়িয়ে ধরবে ) তুমি কেমন আছ বাজান ,
তুমি কত সুকিয়ে গেছ। তুমি এখানে বস বাজান ,আমি মাকে ডেকে দেই।
মা মা ডাকতে ডাকতে মনিরার প্রস্থান ।
কই আমার বেইয়ই কই ?বলতে বলতে নাজমার প্রবেশ পিছনে মনিরা ।
নাজমাঃ বেয়াই সাহেব আপনি এসে পরছেন , আমি বেশ খুশি হয়েছি । আজই কিন্তু
চলে যেতে পারবেন না , দুই দিন থেকে একটু ভাল মন্দ খেয়ে যাবেন। কত দিন পরে
মেয়ে বাড়ীতে আসছেন ?
আনোয়ার ঃ (হাসি মুখে)বেশতো বেয়াইন সাহেবা, তা আপনি ঠিকই বলেছেন , কিন্তু
একার সংসার ইচ্ছে করলেইতো আর থাকা যায় না । আমি বরং অন্য একদিন বেড়াতে
আসবো ?
মনিরা ঃ বাজান , মা যখন এত করে বলছেন দুইডা দিন থইকাই যাওনা বাজান ?
আনোয়ার ঃ(মনিরাকে কাছে এনে আদর করতে করতে ) তুইতো জানিসরে মা আমি না গেলে
খালি বাড়িটা কে দেখবে বল ?
মনিরা ঃ বাজান আমার শরীরডা খুবই খারাপ লাগে , বলছিলাম তুমি থাকলে তোমারে
নিয়া আমি একটু ডাক্তারের কাে লাগে , বলছিলাম তুমি থাকলে তোমারে নিয়া আমি
একটু ডাক্তারের কাছে যাইতাম ।
আনোয়ার ঃ কেনরে মা , সেলিম বাবাজি কে নিয়া যাবি ।
মনিরা ঃ তুমি একটু মায়রে বুঝাইয় কইয়া যাও বাবাজ ।আমি কালই ডাক্তারের কাছে যামু।
আনোয়ার ঃ বেয়াইন সাহেবা মনির শরীরডা নাকি বেশ ভাল না , আপনি ওকে সেলিম
বাবাজিকে নিয়া একটু ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিন ।
নাজমা ঃ বেশতো আমিই ব্যবস্থা নিবো, এ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না ।
আনোয়ার ঃ বেশতো তা হলে আজ আমি আসি বেয়াইন সাহেবা ? আছসালমুআলাইকুম প্রস্থান ।
নাজমা ঃ বউমা তোমাকে আগেই বলেছি তোমার কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবে , তা না
করে এইমুহুর্তে কথাগুলো তোমার বাবাকে বলা কি ঠিক হয়েছে ? একথা গুলো তোমার
বাবার সামনে বলে আমাকে আপমান না করলেও পারতে। যাক বেশ করেছো এখন থেকে
তোমার বাবাই তোমাকে দেখা শুনা করবে বুঝলেতো ?
মনিরা ঃ (কান্না কান্না কন্ঠে )মা আমাকে আপনি ভুল বুঝবেন না । আমিতো অন্য
কাউকে বলিনি মা । কথা দিলাম মা ,আমি আর কাউকে কিচ্ছুই বলবো না মা , আমি
মরে গেলেও আর কোন দিন কিছুই বলবো না মা কাদতে কাদতে প্রস্থান ।
নাজমা ঃ দেখলে বৌয়ের কান্ড আমার মুখের উপরে কেমন করে কথা বলে গেল আসুক
আজ সেলিম বাড়ীতে এর একটা বিহীত আমাকে অবশ্যই করতে হবে।বলতে বলতে ক্ষীপ্র
মেঝাজে প্রস্থান ।


(ছয় মাস পরের ঘটনা, মনিরা বেশ অসুস্থ হয়ে পরবে। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে
বাবা আনোয়ার দেখতে আসবে।)
আনোয়ারঃ বেয়াইন সাহেবা... বেয়াইন সাহেবা... বাড়ী আছেন?
(নাজমার প্রবেশ)
নাজমাঃ আরে বেয়াই সাহেব যে! আসেন আসেন! বসেন। তা ভাল আছেন বেয়াই সাহেব?
আনোয়ারঃ যে আল্লায় ভালই রাথছে। আপনারা সবাই ভাল আছেনতো?
নাজমাঃ হ্যা হ্যা আমরা সবাই ভাল আছি বেয়াই সাহেব। তবে সুসংবাদটা বেয়াইকে
এখনই দিয়ে দেই। বেয়াই আমার নানা হতে যাচ্ছেন।

আনোয়ারঃ আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তুমি আমার মায়েরে ভাল রাইখ। (এ সময়
অসুস্থ্য মনিরাকে নিয়ে সেলিমের প্রবেশ, সেলিম মনিরাকে শুয়ে রেখে শশুর
আনোয়াকে ছালাম করবে। আনোয়ার মেয়ে মনিরাকে দেখবে) তোর একি অবস্থা হয়েছেরে
মা? বেয়াইন সাহেব ওকে কি ডাক্তার দেখান নাই?
নাজমাঃ এ অবস্থায়কি কোন ডাক্তারী ওসুধ চলে বেয়াই? কবিরাজকে দেখাইছি।
কবিরাজ কইছে কোন সমস্যা নাই। আর বোঝেনইতো প্রথম বাচ্চার সময় একটু আধটু
সমস্যা হইতেই পারে। তবে ভয়ের কিছু নাই। এ নিয়ে আপনে কোন চিন্তা করবেন না
বেয়াই।
আনোয়ারঃ (কিছুটা বিষন্নভাবে) তোর শরীরের অবস্থা এখন কেমনরে মা?
মনিরাঃ (কান্না কন্ঠে) তুমি আমারে লইয়া যাও বাজান। আমি এই খানে থাকলে
বাচুম না। আমি তোমার দুইডা পায়ে পরি আসারে লইয়া যাও।
নাজমাঃ (রাগন্নিত হয়ে) বউ মা তুমি চুপ করবা। তোমার কি হইছে হেইডা আমি
জানি। এইডা তোমার বাবায় নিয়া কি করবে হুনি।
আনোয়ারঃ না বেয়াইন। আমি আমার মায়েরে নিয়া ডাক্তার দেখামু। আমাগো গ্রামে
একজন ভাল প্যারমেডিক ডাক্তার আইছে। হে অনেক ভাল চিকিৎসা করে। আমনে বেয়াইন
আমার মাইয়ারে দিয়া দেন। আমার মন বলছে আমার মায়রে ঐ ডাক্তার দেহাইলে ভাল
হইয়া যাইবো। কথা দিলাম আমি নিজে আবার দিয়া যামু।
নাজমাঃ না! না! আপনের মেয়ে হইলেও তার গর্ভে এহন আমার বংশের প্রদীপ। আপনের
লগে আপনের মাইয়া দিয়া আমি আমার বংশের প্রদীপ নিভাইতে পারমু না। আর এত বড়
ভুল আমি করমুও না। আমার ছাপ কতা মরতে হয় এখানে মরব বাছতে হয় এখানে বাচবো।
আনোয়ারঃ তাইলে আপনে আমার মাইয়ারে দেবেন না?
নাজমাঃ কইছিতো না! ও এখানেই থাকবে।
আনোয়ারঃ এত বড় ভুল করবেন না বেয়াইন।
নাজমাঃ আমি ভুল করলে সেই ভুলের মাশুল আমিই দিমু। সে খানে আপনেরে ডাকতে
হবে না। আপনি এবার আসতে পারেন।
আনোয়ারঃ আমি চলে যাব ঠিকই। তয় শেষ বারের মতো আমার মায়েরে একটু দেইখা লই।
(এ সময় আনোয়ারের দুচোখ দিয়ে পানি ঝড়বে। মনিরার অবস্থা আরও খারাপ হইবে।
বাবা মেয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকবে।) আমি এখন যাই মা! আমি যে আর তোর
কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা। (প্রস্থান)
সেলিমঃ (নির্বাক মনিরার দিকে তাকিয়ে থাকবে। এরপর মাকে লক্ষ্য করে বলেবে)
মা তুমি একবার অনুমতি দেও মা আমি ওরে একটু হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইয়া
আনি। দেখছনা মা ওর অবস্থা খুবই খারাপ। তুমি এত নিষ্ঠুর হইওনা। তুমি একবার
অনুমতি দেও মা। একবার অনুমতি দেও... (সেলিম মায়ের দু'পা জড়িয়ে কাঁদতে
থাকবে।)
নাজমাঃ সেলিম বউর জন্য দরদ উতলাইয়া পরছে ? মায়ের কথা ভাল লাগেনা ?
(এ সময় আনোয়ার ডাক্তারসহ প্রবেশ)
আনোয়ারঃ মা... মনি মা... (মনিরার পাশে বসে পড়বে) আমি তোর জন্য ভাল
ডাক্তার নিয়া আইছি মা। তোর কিছু হবেনা। (এ সময় ডাক্তার ভিপি যন্ত্র দিয়ে
মনিরাবে পরীক্ষা করতে থাকবে, এসময় সবাই অপেক্ষা করতে থাকবে। এসময় ডাক্তার
প্রেসক্রিপশন করে ঔষধ দিবে ,(প্রস্থান) পুনঃ প্রবেশ এবং মানরাকে মৃতু
ঘোষনা । (এ সময় চিৎকার করে উঠবে আনোয়ার ও সেলিম )করুন সুরে মিউজিক বাজতে
থাকবে)
বিবেকের গানঃÑএমন খেলা খেলিসনে তুই ,বসিয়া তোর দরবারে ,কেউবা হাসে
,কেউকবা ভাসে ,অথৈ সাগরে।(এসময় বাবা আনোয়ার মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে কাদতে
থাকবে ,এরই এক পর্যায় ঢলে পরবে এবং মারা যাবে) (এসময় সেলিম উম্মাদের মত
চিৎকার করতে থাকবে এবং মাকে লক্ষ করে)
সেলিমঃ তোমার জন্য শুধু তোমার জন্য আজ আমি আমার সব কিছু হারিয়ে নিঃষ হয়ে
গেলাম।এসবই তোমার ভুলের জন্য........মা তুমি যাননা , তুমি আমার গর্ব
ধারিনি বলে কথা অন্যথায় এই তিনটি খুনের দায়ে আমি তোমাকে আইনের কাঠ গড়ায়
দাড় করাতাম ।
নাজমাঃ তাই কর বাবা তাই কর , আমারই ভুলে যখন আমার সন্তানের এত বড় সর্বনাশ
হয়ে গেল , তখন আমার বিচারই হওয়া উচিৎ।
সোনেন মা-বোনেরা , আমার মত এমন ভূল যেন আর কেউ কোন দিন না করে,তাহা হলে
এরকম জীবন দিয়ে সে ভুলের খেসারত দিতে হবে। আমাকে আপনারা সবাই ক্ষমা করে
দিন,ক্ষমা করে দিন।
ডাক্তারঃ এখন আর আফসোস করে কি ফল বলেন ?এসবই আপনাদের ভুলের জন্যে। কি আর
বলবো বলেন ,আপনারা যদি সময় মত মেয়েটিকে অন্তত আমার মত একজন প্যারামেডিক
ডাক্তারের শরনাপন্ন হতেন তবুও এতবড় ক্ষতি হত না। মনিরাকে যদি প্রথম
থেকেই সকল চেকাপ গুলো করানো হতো,তবে তার সমস্যা গুলো ধরা পরতো। তাহলে
এবার বুঝতে পারছেন তো যে আপনাদের সামান্য ভুলে মা গেল, তার গর্বের সন্তান
গেল,এবং নিজ কন্যার মৃতু শোক সইতে না পেরে বাবাও শেষ নিশ্বাস ত্যাগ
করলেন। একটি ভূলের খেসরাত দিতে গিয়ে অকালে ঝড়ে গেল তিন তিনটি তরতাজা
প্রাণ। তাই বলেছিলাম আমাদের সকলেরই সচেতন হওয়া দরকার। আমরা কখনই অদক্ষ
চিকিৎসক, ওঝা, কবিরাজ, কিংবা যার ফুক ও পানি পরার উপর ভরসা না করে সময়মত
অন্তত একজন প্যারামেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করে নিজে সুস্থ থাকব
পরিবারকে সুস্থ রাখব। এতে উপকৃত হবে দেশ ও জাতি। তাহলে আমরা এবার সাবই
আসি। (প্রস্থান)